৪৫ বছর পর টাঙ্গাইল-১ থেকে বিএনপির এমপি হলেন স্বপন ফকির : দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ পেলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন | রাজনীতি
বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (যিনি এলাকায় স্বপন ফকির নামেই সমধিক পরিচিত)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তিনি প্রায় ৪৫ বছর পর এই আসনে বিএনপির বিজয় পুনরুদ্ধার করেন। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার এই ঐতিহাসিক বিজয় এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম-এর জীবনবৃত্তান্ত :
ফকির মাহবুব আনাম ১৯৫৩ সালের ০৫ মার্চ টাঙ্গাইল জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারক ফকির মাহবুব আনাম শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে জাতীয় পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠক হিসেবে তাঁর দক্ষতা প্রকাশ পায়, যা পরবর্তীকালে ব্যবসা ও রাজনীতিতে তাঁর সাফল্যের ভিত্তি রচনা করে।
তিনি একজন রাজনীতিবিদ, উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একই বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত Willesden College of Technology-এ অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করেন।
ফকির মাহবুব আনাম চার দশকেরও বেশি সময় ধরে উদ্যোক্তা ও শিল্প নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে-মৎস্য ও চিংড়ি চাষ, সামুদ্রিক রপ্তানি, তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি-শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চা ও পাট রপ্তানি, অবকাশ ও বিনোদন অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। হ্যাচারি কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক লাভ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত হ্যাচারি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হ্যাচারি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তিনি মৎস্য ও সামুদ্রিক রপ্তানি খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি Shimizu Specialized Fishing Pvt. Ltd. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন এবং ১৯৮২-২০০৪ পর্যন্ত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
১৯৯০-এর দশকে তিনি তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগ ও নেতৃত্ব প্রদান করেন। তিনি Vase Apparels Ltd. (১৯৯৩-২০০৭), এবং Vase Paper Products Ltd.-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক বিকাশের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রপ্তানি ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক ক্রেতা সম্পর্ক ও শিল্প পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি সান এন স্যান্ডস এমিউজমেন্ট পার্ক প্রাইভেট লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান, আনাম এ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, Shimizu Hatchery & Nursery (Shrimp), Anam Green Fuel Energy Resource এবং Anam Eastern Traders-এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক স্থায়ী কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। National Tea Company (NTC)-এর সাবেক পরিচালক, টাঙ্গাইল রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
পারিবারিক জীবনে তিনি ডা. রেশমা আনামের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির দুই পুত্র সন্তান ফকির রিয়াসাত সালেকিন আনাম ও রাদ শারবার আনাম।
