যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অপরিহার্য: পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন | আন্তর্জাতিক
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে পাকিস্তান।
রোববার (১২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এবং তেহরান-উভয় পক্ষকেই বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মেনে চলা অপরিহার্য। দুই দেশের মধ্যকার সংলাপ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও চলমান স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তিনি।
ইসহাক দার তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়া বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তারা যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখুক।’
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইসলামাবাদ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই দুই বৈরী দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাটাই বড় প্রাপ্তি বলে পাকিস্তান মনে করছে।
পাকিস্তান শুরু থেকেই এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ইসহাক দার পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী দিনগুলোতেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ সহজতর করতে পাকিস্তান তার ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।
কূটনৈতিক এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য আলোচনার দরজা সবসময় খোলা রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য যে, ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর মার্কিন প্রতিনিধি দল কোনো চুক্তি ছাড়াই ত্যাগ করার পর এই প্রতিক্রিয়া আসলো।
শান্তি আলোচনার এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি যাতে ভেঙে না পড়ে, সেজন্য আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকেও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আহ্বান মূলত সেই বৈশ্বিক উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
এখন দেখার বিষয় যে, তেহরান ও ওয়াশিংটন আগামী দিনগুলোতে এই ‘অপরিহার্য’ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে কতটা সদিচ্ছা দেখায় এবং পাকিস্তানের পরবর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়।
