গ্যাস সংকটে ঘরে ঘরে ‘টাইম বোমা’: এলপিজি না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানির ব্যবহার

 প্রকাশ: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন   |   মতামত

গ্যাস সংকটে ঘরে ঘরে ‘টাইম বোমা’: এলপিজি না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানির ব্যবহার

মাহফুজার রহমান 

সারাদেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে বহু এলাকায় রান্না র জন্য প্রয়োজনীয় এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়ে কিছু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে, যা ঘরে ঘরে এক ধরনের ‘টাইম বোমা’ তৈরি করছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। রান্না বন্ধ রাখা সম্ভব না হওয়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে অবৈধভাবে সিএনজি ব্যবহার করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিএনজি ও এলপিজি  এক ধরনের গ্যাস নয় এবং এদের সংরক্ষণ ও ব্যবহারের চাপমাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সিএনজি সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ বার উচ্চচাপে সংরক্ষণ করা হয়, অথচ রান্নার এলপিজি  সিলিন্ডার তৈরি করা হয় মাত্র ৮ থেকে ১৫ বার চাপ সহ্য করার উপযোগী করে। ফলে এলপিজি  সিলিন্ডারে সিএনজি ভরা হলে তা যেকোনো সময় বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া এলপিজি -এর জন্য ব্যবহৃত রেগুলেটর, পাইপ ও চুলা সিএনজি -এর অতিরিক্ত চাপ সহ্য করার জন্য ডিজাইন করা নয়। চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ হলে হঠাৎ গ্যাস বেরিয়ে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবার নয়, একই ভবনের অন্যান্য বাসিন্দার জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে।আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সিএনজি মূলত গন্ধহীন হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে লিক হলেও তা সহজে বোঝা যায় না। ফলে ঘরের ভেতরে অজান্তেই গ্যাস জমে থাকে। এ অবস্থায় সামান্য স্পার্ক, বৈদ্যুতিক সুইচ অন করা বা আগুন জ্বালানোর মতো ঘটনাও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা বন্ধ করতে হলে দ্রুত রান্নার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং অবৈধভাবে সিএনজি সরবরাহ ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।তারা বলেন, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের অননুমোদিত জ্বালানি ব্যবহার কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। সচেতনতা ও প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

মতামত এর আরও খবর: