ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান

 প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান


ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত এক চরম ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ইসরায়েলের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করতে কাজ করছে।  ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্ক সংকেত পাওয়ামাত্র নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। এই নতুন দফার হামলা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমাকে এক রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে, যার ফলে কাতার এয়ারওয়েজসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে।


সংঘাতের আঁচ লেগেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। কুয়েতের আল জাহরা শহরে একটি মার্কিন ‘এফ-১৫’ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরে আল জাজিরা যাচাই করেছে। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

f15


এ ছাড়াও বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলেও শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আসা মিসাইল ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরাকি প্রতিরক্ষা বাহিনী।


অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে এবং বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীসহ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ৫০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।


সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) এর আক্রোটিরি ঘাঁটিতেও একটি শাহেদ ড্রোন আঘাত হেনেছে, তবে এতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলাইডেস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সাইপ্রাস কোনো সামরিক অভিযানের অংশ নয়।


ইরানেও হামলার তীব্রতা বেড়েছে; দেশটির সানান্দাজ শহরে মার্কিন ও ইসরায়েলি মিসাইল হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মিনাবে, যেখানে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় লক্ষ্য করে হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে।


এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও সামরিক উত্তেজনার মাঝেও ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি বলেন, ‘ইরান এখন কেবল আত্মরক্ষা করছে এবং তারা এই যুদ্ধের সূচনা করেনি।’ 


ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি জানিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে খামেনির উত্তরসূরি নির্ধারণে অস্থিরতা না দেখিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি ক্রমাগত জটিল হচ্ছে; ইসরায়েল লেবানন ও ইরানে হামলা জোরদার করছে এবং পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর: