বলাকইড় পদ্মবিল হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪১ অপরাহ্ন | সারাদেশ

সরদার মজিবুর রহমান: পদ্মকে জলজ ফুলের রানি বলা হয়। আর প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই পদ্মফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জের বিলের চিত্র। দূর থেকে মনে হবে যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ। প্রতিদিনই এ বিলের পদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে শত শত দর্শনার্থী। বর্ষাকালে কোনো কাজ না থাকায় দর্শনার্থীদের নৌকায় করে বিলে আনা-নেওয়ার কাজ করে এবং পদ্মফুল ও ফল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় অনেকে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় অসংখ্য বিল রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম সদর উপজেলার বলাকইড় বিল। জেলা সদর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। বর্ষা মৌসুমে চারদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গোলাপি ও সাদা রঙের পদ্ম দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিচ্ছে। এ বিলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখার জন্য প্রতিদিনই বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন অনেকে। তারা নৌকায় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
বলাকইড় গ্রামের শাহাবুদ্দিন শেখ বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষের কাছে শুনেছি বিলে অনেক পদ্মফুল ফুটত। কিন্তু হঠাৎ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এ ফুল ফোটা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৮৮ সালে বন্যার পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জš§ হয়ে থাকে। আর এ কারণে বিলটি এখন পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।’
বলাকইড় দক্ষিণপাড়ার নৌকার মাঝি ইনাজ ঢালী বলেন, ‘এখানে শত শত লোক আসে পদ্ম দেখতে। তাদের নিয়ে বিলের পদ্ম ঘুরে ঘুরে দেখাই। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এ দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাই।’ নৌকার ভাড়া মিটিয়ে খেয়ে-দেয়ে ভালো আছেন বলেও জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে পদ্মবিল ঘুরতে আসা এক অভিভাবক সাহিত্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে-বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে, দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়াÑঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া, একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু।’
কোটালীপাড়া থেকে বিলে ঘুরতে আসা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা পাঁচ বন্ধু এ বিলের পদ্ম দেখতে এসেছি। এর সৌন্দর্য দেখে আমরা মুগ্ধ। কিন্তু এখানে আসার পথ এত খারাপ আর সরু যে, ইজিবাইক নিয়ে আসতেও অনেক কষ্ট হয়েছে।’
এ বিলের সৌন্দর্য নিয়ে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, ‘বিলের পদ্ম দেখতে সারা দেশ থেকে বর্ষাকালে দর্শনার্থীরা ভিড় করে। এখানে আসার রাস্তা সরু ও সংকীর্ণ হওয়ায় ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি তারা খুব তাড়াতাড়ি এ রাস্তার কাজ শুরু করবেন। আর একটা পর্যটন স্থানের জন্য যেসব অবকাঠামো প্রয়োজন হয় সে বিষয়ে পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও এ বিষয়গুলো দেখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এটি একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জায়গাকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব সবার।’ প্রকৃতি যাতে নষ্ট না হয় তাই প্রকৃতিকে রক্ষায় সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকার অনুরোধ করেন তিনি।