দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে কোরআনের মাহফিল শোনার দরকার নাই, জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্য ভাইরাল

 প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন   |   রাজনীতি

দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে কোরআনের মাহফিল শোনার দরকার নাই, জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্য ভাইরাল


সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমানের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না, তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নাই।’ সম্প্রতি শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর এলাকায় কাশিনাথপুর আব্দুল মজিদ হাফিজিয়া ও দাখিল মাদরাসার উন্নয়নকল্পে আয়োজিত একটি মসজিদের ইসলামী জালসায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পক্ষে-বিপক্ষে অসংখ্য মন্তব্য আসতে থাকে।

ভিডিওতে জামায়াত নেতা মিজানুর রহমানকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি অনুরোধ করতে চাই, যারা হাত তোলেন নাই, আমি বলবো আজকে যদি কোরআনের মাহফিল শোনেন—কোরআনের কথা হবে। কোরআন আর আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন।’


তবে নিজের বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে মিজানুর রহমান দাবি করেন, ভিডিওতে তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মাস দুয়েক আগে ওই জালসায় বক্তব্য দিয়েছিলাম। ভিডিওতে যেভাবে এসেছে, সেভাবে আমি বলি নাই। আমি বলেছি—সবাইকে কোরআনের পথে আসা বাঞ্ছনীয়।’


এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জামায়াতে ইসলামী বরাবরই ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে। তার ভাষ্য, ‘দলের নামের সঙ্গে ইসলাম থাকায় তারা ধর্মকে ব্যবহার করে থাকে। দ্বীনি আলেমদের একটি বড় অংশ এ কারণেই জামায়াতকে পছন্দ করে না। তারা মওদুদীবাদ কায়েম করতে চায়। আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান—এই বাস্তবতাকে তারা রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চায়। অথচ ইসলামী জালসায় মানুষ কোরআন-হাদিসের আলোচনা শুনতে যায়, সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়।’

উল্লেখ্য, এর আগেও জামায়াতের একাধিক প্রার্থীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হক একটি উঠান বৈঠকে ভোটারদের উদ্দেশে ধর্মীয় বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হন। পরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।


এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ও রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী এটিএম আজম খান একটি মতবিনিময় সভায় ধর্মীয় তুলনামূলক বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তিনি সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।


রাজনীতি এর আরও খবর: