রিফাত হত্যা: আপিল করতে ঢাকায় মিন্নির বাবা

 প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২০, ০১:০২ অপরাহ্ন   |   আইন-আদালত-অপরাধ

রিফাত হত্যা: আপিল করতে ঢাকায় মিন্নির বাবা


বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে ঢাকায় এসেছেন তার বাবা।


রায়ের কপি হাতে পেয়েই শনিবার রাতে ঢাকা পথে রওনা হন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

রোববার রায়ের কপি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সাথে তিনি দেখা করতে গেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

তবে মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ মামলায় বরগুনা আদালতে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মিন্নির বাবা রায়ের কপি হাতে পেয়েছেন। কপি পাওয়ার পরপরই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বরগুনা ছেড়েছেন।

রিফাত হত্যা মামলার ৪২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হয়। মিন্নির বাবাই আদালত থেকে এ রায়ের কপি প্রথম হাতে পান বলে জানা গেছে।


২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে কয়েকজন যুবক। এ হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরদিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। প্রথমে মিন্নিকে এ মামলার প্রথম সাক্ষী করা হলেও পরে পুলিশের হাতে কিছু তথ্য আসার পর তাকে আসামি করা হয়।

সে বছরের পহেলা সেপ্টেম্বর এ মামলার আসামিদের প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

গত বুধবার দুপুরে মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দিয়ে এ মামলার রায় দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

অন্য ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯) ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)। একই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত আসামি রিফাত ফরাজী, রাব্বি আকন, সিফাত, টিকটক হৃদয়, মো. হাসান এবং মিন্নি পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে রিফাত শরীফকে হত্যা করেছেন তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে।