তারেক রহমানের বিজয়কে যেভাবে দেখছে ভারতীয় মিডিয়া

 প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

তারেক রহমানের বিজয়কে যেভাবে দেখছে ভারতীয় মিডিয়া


সব আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এনিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা বিএনপি'র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে এই তালিকায় একধাপ যেন এগিয়ে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো ছাড়াও টেলিফোন করেছেন। 


ভারতের এমন শুভেচ্ছাবার্তা দেশটির গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। সেইসঙ্গে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে পতন হওয়া শেখ হাসিনার বাণী। 


বাংলাদেশের নির্বাচনের পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে প্রধান প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল—‘নৌকাবিহীন ভোটে বাংলাদেশের আস্থা চেনা ধানের শিষের উপর, ক্রমশ পিছোতে পিছোতে কুড়ি বছর পর “সবার আগে” বিএনপি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে খালেদা এবং হাসিনাকে কেন্দ্র করেই। এই অক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে বার করে আনার ডাক দিয়েছিলেন জামায়াত, এনসিপি-র নেতারা। কিন্তু, বাংলাদেশের জনগণ এখনো অচেনা বা অল্প চেনাদের হাতে শাসনভার দিতে স্বচ্ছন্ন নন।

আরেক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘ভোটে হারলেও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সেরা ফল জামায়েতের, শফিকুরদের উত্থান কি চাপে ফেলে দেবে ভারতকে’।

সকালে এক শীর্ষ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে বাংলায় পোস্ট মোদির, একসঙ্গে কাজের বার্তা, শুভেচ্ছা জানালো আমেরিকাও’। একই দিনে পত্রিকাটির অপর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘ঘনিষ্ঠতা চায় পাকিস্তান, বাংলাদেশে তারেক রহমানের জয় নিশ্চিত হতেই পোস্ট পাক প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টের! কী বার্তা।’



প্রতিবেদনটিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বার্তা তুলে ধরে বলা হয়, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হতে চলেছেন সে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। জয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তান থেকেও এলো শুভেচ্ছাবার্তা। তারেককে জয়ের অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যম পোস্ট করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। বার্তা এসেছে পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির কাছ থেকেও।’

ভোটের দিন বিকেলে বাংলাদেশের নির্বাচনের খবরের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমটি হাসিনার বার্তা নিয়ে ভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনটি পরদিন দুপুরেও দৈনিকটির ওয়েবসাইটে দেখা যায়। প্রতিবেদন অনুসারে, ‘সমাজমাধ্যমে হাসিনার দাবি, দেশবাসী এই “প্রহসনের ভোটকে প্রত্যাখ্যান” করেছেন।’

এ ছাড়া আজকাল-এর প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘এপার-ওপার সুসম্পর্কের বার্তা, “তারেকভাইকে” শুভেচ্ছা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতার’। 

প্রতিবেদনে বলা হয়,  ওপার বাংলায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের পথে বিএনপি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, মোদি থেকে মমতা, তারেক রহমানকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বিকেলে নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তারেক রহমানবিকেলে নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তারেক রহমান

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, ‘দিল্লিতে বসে ভোট প্রত্যাখ্যান হাসিনার, বাংলাদেশের ভোটে জয় নিয়ে তারেক রহমানকে কী বার্তা মোদির?’

দ্য স্টেটসম্যান-এর বাংলা সংস্করণ দৈনিক স্টেটসম্যান-এর দুইটি প্রধান প্রতিবেদন পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দিয়ে ছাপানো হয়। একটির শিরোনামে বলা হয়—‘বাংলাদেশ নির্বাচন: ২১২ আসনে এগিয়ে বিএনপি, সরকার গঠনের পথে’। 

প্রতিবেদনটির ভাষ্য—‘রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে।’

বাংলাদেশের নির্বাচনের বেসরকারি ফল প্রকাশের পর সংবাদ প্রতিদিন এক বিশাল ব্যানার শিরোনাম করে। বলা হয়—‘প্রত্যাবর্তনেই পরিবর্তন’। সংবাদমাধ্যমটির ওয়েব পেজের ওপরের অংশজুড়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন ছিল।

একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘ড্রাগনের “রক্তচক্ষু” “চিকেনস নেক”-এ! বিএনপি জিততেই “একসঙ্গে কাজ করার” বার্তা চীনের’।

একই দিন বিকেলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণে গুরুত্বের সঙ্গে মোদি-তারেকের ফোনালাপের কথা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি নেতার কাছে নরেন্দ্র মোদি ‘শান্তি ও অগ্রগতি’র আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলেও সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়। 

তারেক রহমানের প্রতি উষ্ণতা দেখাতে ভারতের এক যুগ লাগলো কেন? তারেক রহমানের প্রতি উষ্ণতা দেখাতে ভারতের এক যুগ লাগলো কেন? 

এ ছাড়া দ্য হিন্দু বাংলাদেশের নির্বাচনের পরদিনও লাইভ আপডেট দেয়। ওই দিন বিকেলে লাইভ আপডেটের প্রধান শিরোনামে নির্বাচনের ফল নিয়ে জামায়াতের অসন্তোষের কথা তুলে ধরা হয়। একই দিনে সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের উত্থান নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধও প্রকাশ করে।

ইন্ডিয়া টুডেও বাংলাদেশের নির্বাচন, বিএনপির জয় ও বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দনের সংবাদসহ একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনগুলোয় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে বলে জানানো হয়।


জাতীয় এর আরও খবর: