এবার ইরানে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন | আন্তর্জাতিক
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, দেশটি বর্তমানে ‘বড় বিপদে’ রয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানি কর্তৃপক্ষ গুলি চালালে যুক্তরাষ্ট্রও বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
ইরানের বিভিন্ন শহর বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের দখলে চলে যাচ্ছে—এমন ভিডিও ফুটেজ সামনে আসার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তোমরা (কর্তৃপক্ষ) গুলি না চালালেই ভালো করবে, কারণ তোমরা গুলি চালালে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব।’
ইরানে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন বলে হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) তথ্য দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশটির কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের অনেক নাগরিক পুলিশের কাছ থেকে বার্তা পেয়েছেন যেন তাঁরা সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে পুলিশ এখন অত্যন্ত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে গতকাল সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই বিক্ষোভকে বিদেশি শত্রু, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাজানো চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দেশবাসীকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ মুখে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে আক্রমণ চালাচ্ছে। খামেনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে ট্রাম্পের হাত ইরানিদের ‘রক্তে রঞ্জিত’ এবং তেহরান ‘বিদেশিদের ভাড়াটে সৈন্য’ হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা নমনীয় হয়ে রাষ্ট্রকে জনগণের ‘প্রকৃত’ অভিযোগ শোনার আহ্বান জানালেও অন্য কট্টরপন্থী নেতারা কোনো সহানুভূতি না দেখানোর অঙ্গীকার করেছেন।
বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠী হেঙ্গা জানিয়েছে, বেলুচ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জাহেদান শহরে জুমার নামাজের পর বের হওয়া একটি বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালানো হয়েছে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে বিক্ষোভকারীরা এখন এমন সব এলাকা দখল করছেন যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিল অকল্পনীয়।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য সহায়তার ইঙ্গিত দেওয়ায় ইরানজুড়ে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যেন ইরানি বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকেন, তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইরানকে তিনি এই মুহূর্তে বিশ্বের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
