হল চালুর সিদ্ধান্তে স্বস্তি: তবে নতুন ছবি মুক্তি দেবেন না প্রযোজকরা

 প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন   |   বিনোদন

হল চালুর সিদ্ধান্তে স্বস্তি: তবে নতুন ছবি মুক্তি দেবেন না প্রযোজকরা

সবকিছু ঠিক থাকলে ১৬ অক্টোবর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু হবে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ। এমন সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে সিনেমা হলের মালিকদের মধ্যে। তাদের আশা, নতুন নতুন ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে আবার চাঙা হবে সিনেমা ব্যবসা। তবে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিগুলোর প্রযোজকরা সহসাই চাইছেন না এখনই মুক্তি দিতে!


চ্যানেল আই অনলাইন থেকে একাধিক পরিচালক ও প্রযোজকদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, আগে পরিস্থিতি বুঝবেন, তারপর মুক্তির বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। কেউ কেউ প্রচারণার জন্য কমপক্ষে একমাস সময় নিতে চান। তবে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিগুলোর প্রযোজকরা জানান, করোনা না এলে হয়তো সবগুলো ছবিই মুক্তি পেত। প্রত্যেকটি ছবির মুক্তির দিনও চূড়ান্ত ছিল।



সেন্সর হয়ে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্রোহী, মিশন এক্সট্রিম, ক্যাসিনো, জ্বীন, বিশ্ব সুন্দরী, পরাণ, বান্ধব, নীল মুকুট ও ঊনপঞ্চাশ বাতাস। শুটিং একেবারে শেষ পর্যায়ে ছিল শান, বিক্ষোভ, ওস্তাদ, অপারেশন সুন্দরবন, স্বপ্নে দেখা রাজকন্যাসহ আরও কিছু ছবি।



শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খান অভিনীত ছবি ‘বিদ্রোহী’র পরিচালক শাহীন সুমন। শাপলা মিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত এ ছবিটি গেল রোজার ঈদে মুক্তির কথা ছিল। সিনেমা হল খুললে ছবিটি মুক্তি পাবে কিনা জানতে চাইলে ছবির প্রযোজক সেলিম খান বলেন, শিগগির সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ, বুকিং এজেন্টের সঙ্গে মিটিংয়ে বসবো। হল খুললেই এতো বড় বাজেটের ছবি মুক্তি দেব না।


তিনি বলেন, আগে পরিস্থিতি বুঝবো তারপর মুক্তি দেব। যোগ করে বলেন, ‘শাহেনশান’ মুক্তির দুদিন পরেই দেশে করোনা সংক্রমণ হয়। সব দর্শক ছবিটা দেখতে পারেনি। তাই ১৬ অক্টোবর যদি হল চালু হয় নতুন করে আবার ‘শাহেনশান’ মুক্তি দেব।


সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ দ্বৈতভাবে পরিচালনা করেছেন তারকাবহুল ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর দুই কিস্তি। পরিচালক সানী সানোয়ার বলেন, আগে অবজার্ভ করতে চাই এ পরিস্থিতিতে দর্শক হলে গিয়ে ছবি দেখাটা কীভাবে গ্রহণ করছে। দর্শকদের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে ছবি মুক্তির তারিখ ঘোষণা দেব। তবে কমপক্ষে একমাস প্রচারণার জন্য সময় নেব।


নিরব-বুবলীকে নিয়ে ‘ক্যাসিনো’ নির্মাণ করেন পরিচালক সৈকত নাসির। ছবির প্রযোজক রাজীব সারোয়ার বলেন, এ অবস্থার মুক্তি দিলে লগ্নির অর্ধেকও পাব কিনা সন্দেহ! এছাড়া অনেক হল এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এ পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই ছবি মুক্তির পক্ষে নই। ‘ক্যাসিনো’ আমার প্রথম প্রযোজিত ছবি। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি দিতে চাইনা।


জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি ‘জ্বীন’। নাদের চৌধুরী পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন সজল, রোশান, পূজা চেরী। প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজক আলিমুল্লাহ খোকন বলেন, এ অবস্থায় সিনেমা হলে দর্শক আসবে কিনা সন্দেহ আছে। জাজের পক্ষ থেকে ছবি মুক্তি দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা ছবি মুক্তির পক্ষে নই।


চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত প্রথম ছবি ‘বিশ্ব সুন্দরী’। রুম্মান রশীন গানের চিত্রনাট্যে সিয়াম-পরীমনি অভিনীত এ ছবির মুক্তির কথা ছিল, যা করোনায় থেমে যায়। পরিচালক বলেন, করোনা না এলে ২৭ মার্চ মুক্তি পেত। নতুন করে মুক্তির বিষয়টি প্রযোজক ভালো বলতে পারবেন। ছবির প্রযোজক অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, মুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। সিনেমা হল খুললে কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করবো। দর্শকদের হলে আসার বিষয়টি বিবেচনা করে মুক্তির নির্ধারণ করবো।



রায়হান রাফী পরিচালিত ছবি ‘পরাণ’। যেখানে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহ মিম, শরিফুল রাজ এবং ইয়াশ রোহান। লাইভ টেকনোলজিসের প্রযোজনায় এ ছবিটি পহেলা বৈশাখে মুক্তির কথা থাকলেও করোনায় সম্ভব হয়নি। প্রযোজক তামজিদ অতুল বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে হল চালুর কমপক্ষে একমাস পর মুক্তি দিতে চাই। এরমধ্যে প্রচারণা চলবে।


অনুপম কথাচিত্রের ব্যানারে নির্মিত ছবি ‘বান্ধব’। সুজন বড়ুয়ার পরিচালনায় এ ছবি প্রযোজনা করেন অনুপ কুমার বড়ুয়া। প্রযোজক বলেন, ২০ মার্চ বান্ধব মুক্তির কথা থাকলেও করোনায় হল বন্ধ হয়ে যায় দুদিন আগে। হল চালুর সিদ্ধান্ত জানলেও এখনই ছবিটি মুক্তি দিতে চাইনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরও কিছু সিনেপ্লেক্স ও মাল্টিপ্লেক্স চালু হবে। তখন মুক্তি দেব।


এদিকে, করোনার মধ্যে প্রথম সিনেমার কাজ শুরু প্রায় শেষ করেছেন অনন্য মামুন। ‘নবাব এলএলবি’ নামে ওই ছবিতে রয়েছেন শাকিব খান, মাহিয়া মাহি, স্পর্শিয়াসহ অনেকে। পরিচালক আগেই জানিয়েছেন দুর্গা পূজা উপলক্ষে ২৩ অক্টোবর ছবিটি তিনি মুক্তি দেবেন। এরমধ্যে হল চালু হওয়ার সিদ্ধান্ত আসলেও তিনি সেখানে মুক্তি দেবেন না বলে জানালেন।


অনন্য মামুন বলেন, আগে আই থিয়েটার অ্যাপে ‘নবাব এলএলবি’ মুক্তি দেয়া হবে। সিনেমা হলে দেব কিনা সেটা পরে বিবেচনা করবো। এছাড়া মেকাপ, সাইকো নামে আরও দুই ছবি মুক্তির অপেক্ষায়। সবগুলো আগে এই অ্যাপে মুক্তি দেব।




প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ও মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, সিনেমা হল খুললে সেখানে চলবে কী, সেটা নিয়ে ভাবছি। এ অবস্থায় বড় বাজেটের ছবিগুলো কোনো প্রযোজকই দিতে চাইবেন না। আর পুরাতন ছবি দিয়ে দর্শকদের হলে আনা সম্ভব নয়।


তিনি বলেন, পাকিস্তানে কিছু কিছু এলাকায় সিনেমা হল চালু হয়েছে। তাদের নিজস্ব কনটেন্ট সংকটের কারণে হলগুলো ফাঁকা যাচ্ছে। ভারতীর সিনেমা পাকিস্তানে প্রদর্শন বন্ধ। আমাদের দেশেও পুরাতন যেসব ছবি রয়েছে সেগুলো দিয়ে কোনোভাবেই দর্শকদের হলে আনা সম্ভব নয়। সিনেমা হল যদি চালু রাখতে হয় মানসম্মত কনটেন্ট লাগবে। নইলে শুধু শুধু আমরা হল খুলে লোকসান কেন বাড়াবো। প্রয়োজনে ছবি আমদানি করতে হবে।