শিকাগো পেল প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী মেয়র

 প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন   |   লাইফস্টাইল

শিকাগো পেল প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী মেয়র

শিকাগো শহর প্রথমবারের মতো কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে মেয়র হিসেবে পাচ্ছে। ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে শিকাগোর মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লরি লাইটফুট। লাইটফুট শুধু কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবেই নয়, প্রথম স্বঘোষিত সমকামী হিসেবেও শিকাগোর মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। আগামী মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান মেয়র রাম ইমানুয়েলের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

শিকাগো শহর রক্ষণশীল ও দুর্নীতিপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এই শহরে কোনো বহিরাগতের পক্ষে বড় দায়িত্বে বসাটা তুলনামূলক দুরূহ। কিন্তু এই দুরূহ কাজটিই করে দেখিয়েছেন লরি লাইটফুট। নিজের বহিরাগত পরিচয়টিকেই তিনি অস্ত্র বানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এতটাই সফল হয়েছেন যে, সম্ভাব্য মেয়র হিসেবে ধরে নেওয়া টনি প্রেকউইঙ্কলকে তিনি নির্বাচনে অনেকটা হেসেখেলেই হারিয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সী টনি প্রেকউইঙ্কল ছিলেন কুক কাউন্টির প্রেসিডেন্ট।

প্রসঙ্গত, শিকাগো শহর ১৯৮৩ সালে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসেবে হ্যারল্ড ওয়াশিংটনকে পায়। এর চার বছর আগে জেন বায়ার্ন নির্বাচিত হয়েছিলেন শহরটির প্রথম নারী মেয়র হিসেবে।

লরি লাইটফুটের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শিকাগো শহরের রাজনৈতিক হিসাব অনেকটাই উল্টে গেছে বলা যায়। কারণ শিকাগোয় শিকড় গভীর নয় এমন কাউকে নির্বাচিত না করার যে প্রবণতা এত দিন ছিল, তা লরি লাইটফুটের এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে। এখন প্রথাগত রাজনীতিকদের নতুন করে ভাবতে হবে। এই বিজয় যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তা লাইটফুটও জানেন ভালো করে।

নির্বাচনে বিজয়ের খবর পাওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কোনো সুযোগ দেয়নি। কিন্তু আমরা বিজয়ী হয়েছি। ক্ষমতার স্বার্থের বিপরীতে, ভীষণ শক্তিশালী কাঠামোর বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা বিজয়ী হয়েছি।’

শিকাগোর বাসিন্দা কিম্বারলি স্মিথ লাইটফুটের অনুসারী। স্বাভাবিকভাবেই লাইটফুটের বিজয়ে ভীষণ খুশি তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এই বিজয় বিরাট এক অর্জন। এই বিজয়কে একজন প্রার্থী, এমনকি একটি শহরের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করলে হবে না। শিকাগোবাসী আর পুরোনোদের চায় না। শিকাগোর রাজনীতির জন্যই এ বিজয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে আমারও ক্ষমতায়ন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

সমকামী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের কাছে লাইটফুটের এ বিজয় অনেক বড় কিছু। এ সম্পর্কিত সংগঠন এলপিএসির নির্বাহী পরিচালক স্টেফানি স্যান্ডবার্গ বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বে সমকামী নারীদের প্রতিনিধিত্ব তৈরি হলো।’

নির্বাচনের কিছুদিন আগ পর্যন্তও লরি লাইটফুটের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুব ক্ষীণ। তখনো প্রতিযোগিতায় ছিলেন ১৩ জন প্রার্থী, যাদের সবারই রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। বিপরীতে সরকারি কর্মকর্তা লরি লাইটফুটের পরিচিতি তেমন ব্যাপক ছিল না। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি শিকাগো পুলিশের বোর্ড ও একটি টাস্ক ফোর্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টাস্ক ফোর্সের প্রধান থাকার সময় বেশ কিছু দুর্নীতির তথ্য তিনি প্রকাশ্যে আনেন। পুঁজি বলতে এটুকুই ছিল তাঁর। সঙ্গে হঠাৎ করেই বর্তমান মেয়র রাম ইমানুয়েলের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোটা তাঁর জন্য ইতিবাচক হয়ে ওঠে। অনেকটা আচমকাই লরি লাইটফুট আলোচনায় উঠে আসেন।

জনসংখ্যা বিবেচনায় আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম শহর শিকাগো। প্রযুক্তি খাত, ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে শহরটির গুরুত্ব অনেক বেশি। বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল শহরটির দুর্নীতির রাশ টেনে ধরে একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও উচ্চ কর নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়। এই অসন্তোষকে মোকাবিলা করাই হবে লরি লাইটফুটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পেনশন নিয়ে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলার জন্য লাইটফুটকে আগামী চার বছরে ১০০ কোটি ডলার জোগাড় করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ লরি লাইটফুট কতটা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারেন এখন তাই দেখার বিষয়।

লাইফস্টাইল এর আরও খবর: