প্রধানমন্ত্রী এখনও সফলভাবে বন্যা মোকাবিলা করছেন : তথ্যমন্ত্রী

 প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২০, ০৮:০৫ অপরাহ্ন   |   রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী এখনও সফলভাবে বন্যা মোকাবিলা করছেন : তথ্যমন্ত্রী

বন্যা মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতা সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা বন্যা-দুর্যোগ মোকাবিলায় অতীতেও সক্ষমতা দেখিয়েছেন, এখনও সফলভাবে বন্যা মোকাবিলা করছেন। ১৯৯৮ সালে যে ভয়াবহ বন্যায় দেশের ৭৫ ভাগ স্থল তিন মাস পানির নিচে ছিল, তখনও অনাহারে মানুষ মৃত্যুবরণ করেনি এবং সেই বন্যাকে সফলভাবে মোকাবিলা করে তিনি বিশ্ববাসীকে তার সক্ষমতা দেখিয়ে ছিলেন।’

‘পরবর্তীতে গত সাড়ে ১১ বছরে যত প্রাকৃতিক দুর্যোগ-বন্যা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করে দুর্যোগের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করেছেন। এখনও বন্যা মোকাবিলায় তার নেতৃত্বে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়সহ পুরো সরকার কাজ করছে। বন্যার্তদের কাছে সাহায্য পাঠানো থেকে শুরু করে সবকিছু করা হচ্ছে।’
রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিন, কার্যনির্বাহী সদস্য আওলাদ হোসেন প্রমুখ মতবিনিময়ে অংশ নেন।

‘যারা এ নিয়ে (বন্যা) টেলিভিশনে বসে কথা বলছেন, তারা কিন্তু বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াননি’ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ জায়গায় যেখানে বন্যা হয়েছে, সেখানে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি আবারও আমাদের দলের নেতাকর্মীদের কাছে অনুরোধ জানাব, যতদিন বন্যা থাকবে, ততদিন তারা যেন মানুষের পাশে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ, এমনকি কর্মীদের থেকেও বিচ্ছিন্ন বিএনপি নেতারা অস্তিত্ব প্রমাণের জন্যই শুধু টিভির পর্দায় কথা বলেন।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের ‘সরকার দুর্নীতিতে বেসামাল’ মন্তব্যের প্রতি তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘সীমাহীন দুর্নীতি- দুঃশাসনের কারণে যারা দেশকে পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল, একবার অবশ্য আফ্রিকার একটি দেশের সাথে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন-সেই বিএনপির মুখপাত্র হচ্ছেন রিজভী আহমেদ। তারা যখন দুর্নীতির কথা বলে, তখন লোকে হাসে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পেট্রলবোমার রাজনীতি করার কারণে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। শুধু জনগণ থেকেই নয়, বিএনপি নেতারা তাদের কর্মীদের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন। টেলিভিশনে উপস্থিতির মাধ্যমে তারা তাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করে এবং সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন কথা বলে। এ ছাড়া অন্য কিছু নয়।’

চলচ্চিত্র শিল্প প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার হাত ধরে ১৯৫৭ সালে যে শিল্পের যাত্রা শুরু সেই শিল্পের স্বর্ণালি যুগ ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এ শিল্পকে কীভাবে বাঁচানো যায়, কীভাবে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, কীভাবে আমাদের দেশের বাংলা ছবি আন্তর্জাতিক বাজারেও স্থান করে নিতে পারে, সে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সবসময় চিন্তা করেন আমাকেও নানা নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি তার সাথে আলোচনাও করেছি।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে সিনেমা হল খোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি এবং করোনার কারণে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধকতার ফলে এ বিষয়ে আরেকটু ধীরে সুস্থে এগোনো ভালো হবে বলে মনে হয়। করোনার প্রকোপ যখন একেবারে কমে যাবে, তখন আমরা সিনেমা হল পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। বিপুল দর্শক থাকা সত্ত্বেও এখনও ভারতে সিনেমা হল খুলে দেয়া হয়নি, পাকিস্তানেও তাই।’

এ সময় চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাসের প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী জানান, সিনেমা হলের বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে শিল্প হারে নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির বিষয়ে সবার সাথে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিনেমা হল আধুনিকায়ন ও নতুন করে চালুর জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের বিষয়ে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথেও আলোচনা চলছে।

রাজনীতি এর আরও খবর: