পুঁজিবাজারের লেনদেন ৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীতের চেষ্টা বিএসইসি’র

 প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন   |   অর্থ ও বাণিজ্য

পুঁজিবাজারের লেনদেন ৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীতের চেষ্টা বিএসইসি’র

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এককভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই এমন কোম্পানির অনেক বোর্ড ভেঙ্গেও দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র পরিচালকদের কার্যক্রম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বিএসইসি।

এছাড়া সম্প্রতি ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরপরই ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) নিয়ে কাজ করবে সংস্থাটি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজারকে আরও বড় করার চেস্টা চলছে, যাতে তিন থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দৈনিক লেনদেন হয়।

গত শনিবার বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ‘টুওয়ার্ডস এ সাসটেইনেবল ক্যাপিটাল মার্কেট : দ্য ড্রাইভার্স অফ গ্রোথ’ বিষয়ক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) যৌথভাবে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে। ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমবিএর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে জনগণের বিনিয়োগের পরে অনেক কোম্পানি ঠিক মতো কাজ করছে না, হঠাৎ কোম্পানি বন্ধ করে চলে যাচ্ছে। যাদের তালা মারা অফিস ঢাকায় এবং কারখানা গাজীপুরে, যারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করেছেন, সে সব কোম্পানিতে সম্ভবত বোর্ডও ভেঙ্গে দিতে হতে পারে। সেখানে আমরা স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে কোম্পানি ঠিক করতে চেস্টা করবো। আইনের মধ্যে থেকেই এগুলো করা হবে। না হলে শেয়ার বাইব্যাক করে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে এখন বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজন। কেবলমাত্র সেকেন্ডারি মার্কেট থাকলে হবে না। এই মার্কেটটাকে অনেক বড় করতে হবে। দৈনিক এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন তেমন কোনো বিষয় না। এই লেনদেনকে দ্রুত তিন থেকে পাঁচ হাজার কোটিতে নেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। এজন্য সারাদেশে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা ছড়িয়ে দেয়া হবে। এমনকি দেশের বাইরেও ডিজিটাল আউটলেট করার ব্যাপারে চিন্তা করা হচ্ছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ইক্যুইটিভিত্তিক পুঁজিবাজার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। গত সাড়ে ৩ মাসে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটে এবং পারপাচ্যুয়াল বন্ড এবং ৮৫০ কোটি টাকার জিরো কূপন বন্ডের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএসইসি একা কিছু করতে পারবে না। এখানে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা ব্যবসাটাকে সহজ করে দিতে চাই। এই সহজ করতে গিয়ে কিছু দুষ্ট লোক যদি নিয়ম নীতি না মেনে অপকর্মে লিপ্ত হয় এবং ওই জাতীয় ২ থেকে ৫ শতাংশ মানুষের জন্য সাধারন বিনিয়োগকারিদের ক্ষতিগ্রস্থ হতে দেবো না। সেই সুযোগ আর দেয়া হবে না। এ নিয়ে আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করতে পারি।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানান, স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়ে আগামীতে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, কিছু স্বতন্ত্র পরিচালককে সরিয়ে দিয়ে, তাদের জায়গায় নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে। আমরা এই সপ্তাহে স্বতন্ত্র পরিচালকদের অনলাইনে আবেদন নেয়া শুরু করব। যারা যোগ্য হবেন, তাদেরকে নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, নতুন কমিশন আসার পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়নের জন্য সুশাসন বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম টেকসই পুঁজিবাজারের জন্য বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড সম্পদ ব্যবস্থাপক এসোসিয়েশনের সভাপতি ড. হাসান ইমাম, ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান, সিএমজেএফ সাধারণ সম্পাদক মুনীর হোসেন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।- বাসস


অর্থ ও বাণিজ্য এর আরও খবর: