কেন বারবার অগ্নিকান্ড?

 প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন   |   প্রশাসন

কেন বারবার অগ্নিকান্ড?

গত ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জনের মতো। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা না বলে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০০০ সালের নভেম্বরে নরসিংদীর চেীধুরী নিটওয়্যার লিমিটেডে নিহত ৫৩ জন, ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে নরসিংদীর শিবপুরে একটি গার্মেন্টস কারখানায় ৪৮ জন, ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে নারায়নগঞ্জের গোদাইল সান নিটিং এর কারখানায় ২০ জন, ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের কেডিএস গার্মেন্টসে ৫৫ জন, একই বছর চট্টগ্রামেরই আরিনা টেক্সটাইলে ৬৪ জন, ২০০৭ সালে ও ২০১৪ সালে কাওরানবাজারের বিএসইসি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের গরীব এন্ড গরীব সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে ২১ জন, একই বছরের ডিসেম্বরে আশুলিয়ার হামীম গ্রæপে ৩০ জন, ২০১০ সালের জুনে ঢাকার নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১২৪ জন, ২০১২ সালের নভেম্বরে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১১৩ জন, ২০০৯ সালের মার্চ ও ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে অগ্নিকান্ড , ২০১৩ সালের জুনে মোহাম্মদপুরের স্মার্ট এক্সপোর্ট গার্মেন্টসে ৭ জন, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে গাজীপুরের ট্যাম্পাকো ফয়েলসে ৩৫ জন, ২০১৯ এর ১৪ ফেব্রæয়ারি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকান্ড ঘটে, একই মাসের ২১ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডে ৭৮ জন এবং সর্বশেষ বনানী এফআর টাওয়ার অগ্নিকান্ডে ২৫ জন। 

কিন্তু এই কেন বারবার এই অগ্নিকান্ড ঘটছে, কেনইবা মানুষকে পুড়ে কয়লা হতে হচ্ছে? প্রশ্নটি সবার মুখে এবং উত্তরটাও জানা কিন্তু প্রতিকারের উদ্যোগ নেই। মূলত অগ্নি দুর্ঘটনাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা না করা, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ ও ভবনের চারিদিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না রাখা, সর্বোপরি জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করাই বারবার একই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ফ্লোর ইনটেরিয়র ডিজাইনের সময় অগ্নিঝুঁকির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া। ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না থাকার ফলে অগ্নিকান্ডের সময় উদ্ধারকারীরা দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং অগ্নি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অধিকাংশ সুউচ্চ ভবনে জরুরি বহিঃগমন সিঁড়ি নেই। অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই বললেই চলে। অধিকাংশ সুউচ্চ ভবনের ফায়ার এলার্ম কাজ করে না, ফলে যতক্ষণে ভবনের লোকজন অগ্নিকান্ডের খবর পান ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। এফআর টাওয়ারের ঘটনায় এমনটিই দেখা গেছে। অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা থাকলেও তা করা হয় না। সুুউচ্চ ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপনের জন্য বিশেষ জলাধার নির্মাণের আইন থাকলেও অধিকাংশ ভবনেই তা নেই। যে কোনোমূল্যে এর প্রতিকার করতেই হবে, তা নাহলে শত শত মানুষকে পুড়ে কয়লা হওয়ার হাত থেকে রক্ষার আশা দূরাশামাত্র।