একুশে বইমেলায় আসছে কবি জাফর পাঠানের 'বারুদের চাষ'

 প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন   |   সাক্ষাৎকার

একুশে বইমেলায় আসছে কবি জাফর পাঠানের 'বারুদের চাষ'

কবি জাফর পাঠানের জন্ম ২ অক্টোবর ১৯৭০ সালে রাজধানী ঢাকায়। বাবা মুক্তিযোদ্ধা ফখরুদ্দিন আহমেদ, মা মনোয়ারা বেগম। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ দ্রোহের দহন (২০১৩), নাবুদের নাদ (২০১৫), অগ্নিবাণ (২০১৬), মুষ্টিবদ্ধ হাত (২০১৭), মুক্ত খাঁচার বন্দী পাখি (২০১৮), একমুঠো ক্ষোভ (২০১৯)।


সম্মাননা পেয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা-২০১৪, সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার সম্মাননা-২০১৪, স্বাধীনতা দিবস সম্মাননা-২০১৫, বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার পক্ষ থেকে জীন হেনরী ডুনান্ট স্মৃতিপদক সম্মাননা-২০১৫, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ প্রশাসকের পক্ষ থেকে বাংলা কবিতা উৎসব পদক-২০১৫।


এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর নতুন কাব্যগ্রন্থ 'বারুদের চাষ'। গ্লোবাল টিভির সাথে তিনি কথা বলেন তাঁর নতুন বই ও বইমেলা নিয়েঃ


সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?

-মূলত বিবেকের তাড়না থেকেই সাহিত্যে আগমন। যেভাবে মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার-স্বাধিকার হরণ করা হচ্ছে অবলীলায়-তা আমাকে ছোটবেলা থেকেই ভীষণ মনোযন্ত্রণা দিত। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে লেখালেখির জগতে আগমন আমার।


মেলায় এবার কী বই আসছে?

-কাব্যগ্রন্থ 'বারুদের চাষ'।


নতুন বই সর্ম্পকে বলুন।

-কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ উপেক্ষা করে সার্বজনীনভাবে রচিত। আমার কবিতাগুলোর মূল স্লোগান হলো - যে  কবিতা অমানুষদের বিপক্ষে গর্জে ওঠে।


গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু বলুন।

-স্ব-প্রণীত মুক্তবৃত্ত ছন্দে লেখা আমার প্রতিটি বই। ভাবের পূর্ণতাকে এবং কবিতার প্রাণ ছন্দের অন্ত্যানুপ্রাসকে প্রাধান্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ছকে যে কবিতা লেখা হয় তা-ই মূলত মুক্তবৃত্ত ছন্দ। এখানে যতি বা পর্ব প্রয়োগ হয় স্বাধীনভাবে।  ধরিত্রীর সমসাময়িক সময়ের কপটতা, নিষ্ঠুরতা ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক অমানবিক আষ্ফালনের বিরুদ্ধে এবং জনে-জনে মনুষ্যত্ববোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান সম্বলিত বলিষ্ঠ গাঁথুনী নিয়ে একুশে বইমেলায় আমার নতুন বই 'বারুদের চাষ'।


 আপনার কবিতার পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

-আগে নিয়মিত কলাম লিখতাম বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায়। এখন অনিয়মিত। মূলত সময় দিচ্ছি কবিতা ও ছড়ায়। সমসাময়িক সময়ের প্রতিষ্ঠিত লেখকরাও আমার লেখার প্রশংসা করছেন । বিবেকবোধ, দেশাত্মবোধ ও দায়িত্ববোধ সম্পন্ন পাঠকের সংখ্যাই আমার বেশি।


বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?

-অন্যসময় বই প্রকাশিত হলে শুধু নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দ পাওয়া যায়। আর বইমেলায় বই উঠলে এবং মেলাকেন্দ্রিক পাঠক, প্রকাশক, শুভানুধ্যায়ীদের মিলনমেলায় আনন্দটা পূর্ণতা পায়। মেলায় অটোগ্রাফসহ নিজ বই পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের হাতে তুলে দেয়ার মজাই আলাদা।


সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই।

-লেখকদের জন্য একুশে বইমেলা ঈদ সমতুল্য। সে এক পরম আত্মিক আনন্দ । তবে যখন দেখি দলমতকে প্রাধান্য দিয়ে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করা হচ্ছে তখন দুঃখ পাই। সাহিত্যের আত্মা হলো পবিত্রতা ও সার্বজনীনতা। সেখানে প্রকৃত সাহিত্যিক বা কবিরা যদি মূল্যায়িত হয় দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তবে তা ভীষণ পীড়াদায়ক হয়। অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করি। মেলা কর্তৃপক্ষের প্রতি আমি একটি দাবি সবসময় করে যাবো,  তা হলো- বইমেলায় স্থান পাওয়া বই যেন লেখকরা ৫০% ছাড়ে কিনতে পারে তার ব্যবস্থা করা। সার্বজনীন ও সাহিত্যের এই পবিত্র মেলায় দল-মতের উর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও মিডিয়াসহ সর্বক্ষেত্রে লেখকরা যেন সমান সুযোগ পায়- তা কামনা করি।


মেলা নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা।

-কোনো কোনো লেখক, সংগঠক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের পদলেহন, দালালীপনা ও স্বার্থকেন্দ্রিক তৎপরতা দেখে ভীষণ লজ্জা ও ঘৃণা লাগে। টিভিতে বই পরচিতি পর্বে অনেক একচোখা ও দলীয় উপস্থাপক বড়ই পীড়াদায়ক আচরণ করেন। মেলায় প্রত্যেক স্টলের সামনে লেখকদের বসার জন্য ব্যবস্থা রাখা জরুরি।


লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কীভাবে?

-স্ব-বিবেক তাড়িত হয়ে লেখালেখির জগতে আগমন আমার।


আমাদের দেশে বই মেলার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলুন।

-স্বাধীন বাংলাদেশ এক বিরল দৃষ্টান্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে। জীবনচরাচর ও জীবনবোধের ভিন্নতা আমাদের স্বতন্ত্র সম্পদ। এই স্বাতন্ত্র্যকে আরো সম্মৃদ্ধ করতে ও ধরে রাখতে প্রতিবছর বইমেলা একটি অত্যাবশ্যকীয় আয়োজন।


প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কী?

-প্রকাশকদের মধ্যে চরিত্রগত, চিন্তাগত ও স্বার্থগত ভিন্নতা বিদ্যমান। কিছু ব্যতীত বেশিরভাগ প্রকাশকের অতি স্বার্থপরতা, দলান্ধতা এবং অতি ব্যবসায়িক মনোভাব ও আচরণগত বিষয় লেখকদের সাথে প্রকাশকদের দূরত্ব সৃষ্টি করছে। প্রকৃত লেখকরা একটি জাতির বা মানব সমাজের প্রদীপসদৃশ। সেই লেখকদেরকে সম্মান দেখানো প্রত্যক প্রকাশকের নৈতিক দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।


কোন ব্যাপারে মনঃক্ষুন্নতা আছে আপনার?

-আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর স্মৃতি বিজড়িত নজরুল মঞ্চে নতুন সব বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ব্যবস্থা আবার ফিরিয়ে আনা হোক। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে কবি, ছড়াকার ও লেখকদেরকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। প্রতিবছর প্রতিটি লেখকের নতুন বই কমপক্ষে দশটি করে রাষ্ট্রীয় এবং মানসম্মত কবিতা, ছড়া এবং পুস্তকের উপর ৫০টি করে পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হোক। আর সেই বিচারিক বোর্ড যেন থাকে নির্দলীয় ব্যক্তিগণ ।


লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

-আমজনতার স্বাধিকার ও মনুষ্যত্ববোধ প্রতিষ্ঠা এবং অমানুষদের অপকর্ম সম্বন্ধে মানুষদেরকে জাগ্রত করে যাওয়াই আমার আমৃত্যু পরিকল্পনা। আর এই পরিকল্পনার মূল উদ্দশ্যে-পরম দয়াময় আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা ।

সাক্ষাৎকার এর আরও খবর: